Privacy Settings

To provide you with the best possible experience, we use cookies and similar technologies. Some cookies are necessary to make our website work and cannot be refused. You can accept or decline the use of additional cookies, which we use only to improve your experience. None of this data will ever be sold or used for marketing. To learn more, read the Global Policy on Use of Cookies and Similar Technologies. You can customize your settings at any time by going to Privacy Settings.

সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

একজন স্বামী ঘরের এক দিকে বসে টলিভিশন দেখছন আর অন্য দিকে তার ত্রী বসে সেলাই করছন

পরিবারের জন্য সাহায্য | বিয়ে

যখন সন্তানরা আর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না

যখন সন্তানরা আর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না

প্রতিদ্বন্দ্বিতা

সন্তানরা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং পরিবার ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকে, তখন বাবা-মায়েরা প্রায়ই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়। ঘরে যখন কোনো সন্তান থাকে না, তখন বলতে গেলে পরস্পরকে তাদের অপরিচিত বলে মনে হয়। এই বিষয়ে পরিবার বিশেষজ্ঞ এম. গ্যারি নিউম্যান লেখেন, ‘আমি এমন বহু লোককে পরামর্শ দিয়েছি, যারা বুঝে উঠতে পারছিল না যে, কীভাবে তাদের বিবাহসাথির সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করবে। সন্তানরা তাদের সঙ্গে আর না থাকায়, তারা একে অন্যের সঙ্গে খুব কম কথা বলে কিংবা একসঙ্গে সামান্যই কাজ করে।’ a

আপনার পরিবারেও কি এইরকম কিছু ঘটেছে? যদি তা-ই হয়, আপনি আপনার বিবাহসাথির সঙ্গে আপনার সম্পর্ক উন্নত করতে পারেন। তবে প্রথমে আসুন, আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, যেগুলো আপনার ও আপনার বিবাহসাথির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করার জন্য দায়ী।

যে-কারণে এটা হয়ে থাকে

বহু বছর ধরে সন্তানরা অগ্রাধিকার পেয়ে এসেছে। ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই বহু বাবা-মা তাদের বিবাহসাথির চেয়ে তাদের সন্তানদের প্রয়োজনীয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফল স্বরূপ, তারা বাবা কিংবা মায়ের ভূমিকা পালন করতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে যে, স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে তাদের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক রয়েছে, সেটা ভুলে যায়; আর সন্তানরা যখন বাবা-মাকে ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকে, তখন এই সত্যটাই প্রকট হয়ে ওঠে। ৫৯ বছর বয়সি একজন স্ত্রী বলেন, ‘সন্তানরা যখন আমাদের কাছে ছিল, তখন আমরা অন্তত একসঙ্গে কোনো কাজ করতাম। কিন্তু, তারা চলে যাওয়ার পর, আমরা যেন দু-জন দুই গ্রহের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছিলাম।’ একটা সময়ে তিনি এমনকী তার স্বামীকে বলেছিলেন: “তোমাকে দেখলে আমার বিরক্ত লাগে।”

কোনো কোনো দম্পতি জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে না। এম্পটি নেসটিং নামক একটা বই অনুযায়ী, “অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয়, তারা যেন নতুন বিয়ে করেছে।” অনেক স্বামী ও স্ত্রী মনে করে, তাদের মধ্যে খুব কম বিষয়েই মিল রয়েছে আর তাই তারা নিজের নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে, তারা বিবাহসাথি হিসেবে নয় বরং শুধুমাত্র একই ঘরের বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করে।

কিন্তু সুখবর হল, আপনি এই ফাঁদগুলো এড়াতে পারেন। আর আপনি এমনকী জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে যে-উপকারগুলো রয়েছে, সেগুলো উপভোগ করতে পারেন। এই প্রচেষ্টায় বাইবেল আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আসুন দেখি, কীভাবে।

আপনি যা করতে পারেন

পরিবর্তন মেনে নিন। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বিষয় বাইবেল জানায়: ‘মনুষ্য আপন পিতা মাতাকে ত্যাগ করিবে।’ (আদিপুস্তক ২:২৪) বাবা-মা হিসেবে আপনাদের লক্ষ্য ছিল, সন্তানদের সেই সময়ের জন্য প্রস্তুত করা আর এমন দক্ষতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করা, যেগুলো তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সাহায্য করবে। সেই দৃষ্টি দিয়ে দেখলে, আপনার সন্তানরা যখন আপনাদের ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকে, তখন সেটার জন্য আপনারা সত্যিই গর্বিত হতে পারেন।—বাইবেলের নীতি: মার্ক ১০:৭.

এটা ঠিক, আপনি সবসময়ই আপনার সন্তানদের বাবা কিংবা মা থাকবেন। কিন্তু, এখন আপনার ভূমিকা ম্যানেজার নয় বরং পরামর্শদাতার মতো। এই নতুন সম্পর্ক সন্তানদের সঙ্গে আপনাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধন বজায় রাখতে আর সেইসঙ্গে আপনার বিবাহসাথির প্রতি প্রাথমিক মনোযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। bবাইবেলের নীতি: মথি ১৯:৬.

আপনার উদ্‌বিগ্নতার বিষয় জানান। আপনার বিবাহসাথিকে বলুন, কীভাবে জীবনের এই পরিবর্তন আপনাকে প্রভাবিত করেছে আর আপনার বিবাহসাথি যদি তার অনুভূতি জানাতে চায়, তা হলে মন দিয়ে তা শুনুন। ধৈর্যশীল হোন ও বিবেচনা দেখান। স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে আপনাদের সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য হয়তো কিছুটা সময় লাগবে কিন্তু তা করে চলার ফলে আপনার প্রচেষ্টা সার্থক হবে।—বাইবেলের নীতি: ১ করিন্থীয় ১৩:৪.

একসঙ্গে নতুন কিছু করুন। দু-জনে অনুধাবন করতে চান এমন লক্ষ্যগুলো নিয়ে কথা বলুন কিংবা একসঙ্গে কোনো নতুন আগ্রহজনক কাজ করার উপায় খুঁজুন। সন্তান লালনপালন করায় আপনারা অনেক ব্যাবহারিক প্রজ্ঞা লাভ করেছেন। অন্যদের সাহায্য করার জন্য সেগুলো ব্যবহার করুন না কেন?—বাইবেলের নীতি: ইয়োব ১২:১২.

আপনার প্রতিশ্রুতিকে পুনরায় শক্তিশালী করুন। সেই গুণাবলি নিয়ে চিন্তা করুন, যেগুলো আপনাদের পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। দম্পতি হিসেবে কত সময় আপনারা একসঙ্গে অতিবাহিত করেছেন, কত ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে এসেছেন, তা স্মরণ করুন। অবশেষে, আপনার জীবনের এই নতুন অধ্যায় আপনি ভালোভাবেই কাটাতে পারেন। আসলে, দু-জনের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা আপনাদের বিয়ের গুণগত মানকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং বিবাহিত জীবনের শুরুতে যে-প্রেম আপনাদের ঘনিষ্ঠ হতে সাহায্য করেছিল, তা পুনরায় গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়।

a ইমোশোনাল ইনফিডিলিটি নামক বই থেকে।

b আপনি যদি এখনও সন্তানদের বড়ো করে তুলছেন, তা হলে মনে রাখবেন, বিবাহসাথির সঙ্গে আপনি “একাঙ্গ।” (মার্ক ১০:৮) সন্তানরা যখন দেখে, তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন রয়েছে, তখন তারা বিশেষভাবে নিজেদের সুরক্ষিত বলে মনে করে।