Privacy Settings

To provide you with the best possible experience, we use cookies and similar technologies. Some cookies are necessary to make our website work and cannot be refused. You can accept or decline the use of additional cookies, which we use only to improve your experience. None of this data will ever be sold or used for marketing. To learn more, read the Global Policy on Use of Cookies and Similar Technologies. You can customize your settings at any time by going to Privacy Settings.

সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

একটি ছাট্ট মেয়ে তার বাবার সগ তার টাকা গুনছ আর এরপর সেটা ব্যবহার করে একটা উপহার কিনে তার মাকে দিচ্ছ

কেন ঈশ্বরকে দান করবেন, যাঁর সমস্ত কিছু রয়েছে?

কেন ঈশ্বরকে দান করবেন, যাঁর সমস্ত কিছু রয়েছে?

“হে আমাদের ঈশ্বর, আমরা তোমার স্তব করিতেছি, তোমার গৌরবান্বিত নামের প্রশংসা করিতেছি।”—১ বংশা. ২৯:১৩.

গান সংখ্যা: ১, ৪৮

১, ২. কীভাবে যিহোবা আমাদের প্রতি উদারতা দেখান?

 যিহোবা হলেন একজন উদার ঈশ্বর। আমাদের কাছে যা-কিছু রয়েছে, সেই সমস্তই তাঁর কাছ থেকে এসেছে। তিনি পৃথিবীর সমস্ত মূল্যবান বিষয়ের মালিক এবং তিনি জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য সেগুলো ব্যবহার করেন। (গীত. ১০৪:১৩-১৫; হগয় ২:৮) আমরা বাইবেল থেকে জানতে পারি যে, কীভাবে যিহোবা কখনো কখনো তাঁর লোকেদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় জোগানোর জন্য এই মূল্যবান বিষয়গুলোকে অলৌকিক উপায়ে ব্যবহার করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ, যিহোবা ইস্রায়েল জাতিকে সেই সময় মান্না ও জল জুগিয়েছিলেন, যখন তারা ৪০ বছর ধরে প্রান্তরে ছিল। (যাত্রা. ১৬:৩৫) ফল স্বরূপ, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু ছিল। (নহি. ৯:২০, ২১) পরবর্তী সময়, যিহোবা ভাববাদী ইলীশায়কে ক্ষমতা দিয়েছিলেন যেন তিনি একজন বিশ্বস্ত বিধবার কাছে থাকা অল্প একটু তেলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন। ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া এই উপহার সেই বিধবাকে তার ঋণ পরিশোধ করার এবং তারপরও তার ও তার ছেলেদের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট অর্থ জুগিয়েছিল। (২ রাজা. ৪:১-৭) আর যিহোবার সাহায্যে যিশু প্রয়োজনের সময় অলৌকিকভাবে খাবার ও এমনকী অর্থও জুগিয়েছিলেন।—মথি ১৫:৩৫-৩৮; ১৭:২৭.

৩. এই প্রবন্ধে আমরা কী নিয়ে আলোচনা করব?

যিহোবা তাঁর সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার জন্য যেকোনো কিছু ব্যবহার করতে পারেন। তা সত্ত্বেও, তিনি তাঁর দাসদের আমন্ত্রণ জানান যেন তারা তাঁর সংগঠনের কাজে সমর্থন জোগানোর জন্য নিজেদের সাধ্যমতো দান করে। (যাত্রা. ৩৬:৩-৭; পড়ুন, হিতোপদেশ ৩:৯.) কেন যিহোবা আশা করেন যে, তাঁকে প্রতিদান দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের ধন বা মূল্যবান বিষয়গুলো ব্যবহার করি? কীভাবে বাইবেলের সময়ে যিহোবার দাসেরা তাঁর কাজে সমর্থন জুগিয়েছিল? কীভাবে বর্তমানে আমাদের সংগঠন দানের মাধ্যমে আসা অর্থকে ব্যবহার করে? এই প্রবন্ধে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হবে।

কেন আমরা যিহোবাকে দান করি?

৪. আমরা যখন যিহোবার কাজে সমর্থন জোগাই, তখন আমরা তাঁর প্রতি কী দেখাই?

আমরা যিহোবাকে দান করি কারণ আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তিনি আমাদের জন্য যা-কিছু করেছেন, সেগুলোর জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা যখন এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করি যে, যিহোবা আমাদের জন্য কী কী করেছেন, তখন সেটা আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। রাজা দায়ূদ যখন মন্দির নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করেছিলেন, তখন তিনিও একইরকম অনুভব করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, আমরা যা-কিছু লাভ করি, সেই সমস্তই যিহোবার কাছ থেকে আসে এবং আমরা যিহোবাকে যা-কিছুই দান করি না কেন, সেটা আসলে আমরা তাঁর কাছ থেকেই লাভ করেছি।—পড়ুন, ১ বংশাবলি ২৯:১১-১৪.

৫. কীভাবে বাইবেল শিক্ষা দেয় যে, নিঃস্বার্থভাবে দান করা সত্য উপাসনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ?

এ ছাড়া, আমরা যিহোবাকে দান করি কারণ এটা হল তাঁর উপাসনা করার একটা উপায়। প্রেরিত যোহন একটা দর্শনে স্বর্গে যিহোবার দাসদের বলতে শুনেছিলেন: “হে আমাদের প্রভু ও আমাদের ঈশ্বর, তুমিই প্রতাপ ও সমাদর ও পরাক্রম গ্রহণের যোগ্য; কেননা তুমিই সকলের সৃষ্টি করিয়াছ, এবং তোমার ইচ্ছাহেতু সকলই অস্তিত্বপ্রাপ্ত ও সৃষ্ট হইয়াছে।” (প্রকা. ৪:১১) নিশ্চিতভাবেই, যিহোবা সমস্ত প্রতাপ ও সমাদর পাওয়ার যোগ্য আর তাই, আমরা তাঁকে আমাদের সর্বোত্তমটা দিতে চাই। যিহোবা মোশির মাধ্যমে ইস্রায়েল জাতিকে বছরে তিনটে উৎসব পালন করার আজ্ঞা দিয়েছিলেন। এই উৎসবগুলোর সময় তাদের উপাসনার একটা অংশ ছিল যিহোবাকে দান করা। লোকেদের বলা হয়েছিল যেন তারা “সদাপ্রভুর সম্মুখে রিক্তহস্তে দেখা” না দেয় বা খালি হাতে না আসে। (দ্বিতীয়. ১৬:১৬) বর্তমানেও, আমাদের উপাসনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, নিঃস্বার্থভাবে দান করা। এভাবে আমরা দেখাই যে, আমরা যিহোবার সংগঠনের কাজকে মূল্যবান বলে মনে করি এবং সেটাতে সমর্থন জোগাই।

৬. কেন দান করা আমাদের জন্য ভালো? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

অন্যদের কাছ থেকে উপহার লাভ করার পাশাপাশি উদারভাবে দান করা আমাদের জন্য ভালো। (পড়ুন, প্রেরিত ২০:৩৫.) একটি ছোট্ট সন্তানের কথা চিন্তা করুন, যে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে অল্প কিছু টাকা পেয়ে থাকে আর পরবর্তী সময় সেখান থেকে কিছুটা টাকা ব্যবহার করে তার বাবা-মাকে একটা উপহার কিনে দেয়। সেই উপহারটা পেয়ে তার বাবা-মা কেমন অনুভব করেন? অথবা একজন অগ্রগামীর কথা চিন্তা করুন, যিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বাস করেন এবং তাদের বাড়িভাড়া দিতে সাহায্য করার অথবা পরিবারের জন্য খাবার কেনার উদ্দেশ্যে বাবা-মাকে কিছুটা টাকা দেন। তার বাবা-মা হয়তো আশা করেন না যে, তাদের সন্তান এমনটা করুক কিন্তু তারা তার উপহারটা গ্রহণ করেন। কেন? কারণ এটা হল একটা উপায়, যেটার মাধ্যমে সেই সন্তান তার বাবা-মায়ের করা সমস্ত কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখান। একইভাবে যিহোবা জানেন যে, আমাদের মূল্যবান বিষয়গুলোর মধ্যে থেকে দান করা আমাদের জন্য ভালো।

যেভাবে অতীতে ঈশ্বরের দাসেরা দান করেছিল

৭, ৮. কীভাবে বাইবেলের সময়ে যিহোবার লোকেরা উদাহরণ স্থাপন করেছিল, যখন তারা (ক) নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলোর জন্য দান করেছিল? (খ) তাঁর কাজে সমর্থন জোগানোর জন্য দান করেছিল?

বাইবেল থেকে আমরা জানতে পারি যে, যিহোবার লোকেরা তাঁর কাজে সমর্থন জোগানোর জন্য দান করেছিল। কখনো কখনো তারা নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলোর জন্য দান করেছিল। উদাহরণ স্বরূপ, মোশি ইস্রায়েলীয়দের আবাস নির্মাণ করার কাজে সাহায্য করার জন্য দান করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়, রাজা দায়ূদ মন্দির নির্মাণ করার জন্য একই বিষয় করেছিলেন। (যাত্রা. ৩৫:৫; ১ বংশা. ২৯:৫-৯) রাজা যিহোয়াশের রাজত্বের সময় যাজকেরা লোকেদের দেওয়া অর্থ ব্যবহার করে মন্দির মেরামতের কাজ করেছিল। (২ রাজা. ১২:৪, ৫) প্রথম শতাব্দীতে, খ্রিস্টানরা জানতে পেরেছিল যে, যিহূদিয়ায় দুর্ভিক্ষ হয়েছে এবং সেখানকার ভাই-বোনদের সাহায্যের প্রয়োজন। তাই, প্রত্যেক খ্রিস্টান সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, সেই ভাই-বোনদের সাহায্য পাঠানোর জন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে কতটা দান করতে পারবে।—প্রেরিত ১১:২৭-৩০.

যিহোবার লোকেরা সেই ব্যক্তিদেরও আর্থিক সমর্থন জুগিয়েছিল, যারা তাঁর কাজে নেতৃত্ব নিত। উদাহরণ স্বরূপ, মোশির ব্যবস্থার অধীনে, অন্যান্য বংশগুলোর মতো লেবীয়দের কোনো উত্তরাধিকার ছিল না। তাই, বাকি ইস্রায়েলীয়রা তাদের কাছে থাকা বিষয়গুলোর দশমাংশ লেবীয়দের দান করত। এর ফলে, লেবীয়রা আবাসে তাদের কাজের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখতে পারত। (গণনা. ১৮:২১) একইভাবে, এমন অনেক উদার মহিলা ছিল, যারা যিশু ও তাঁর প্রেরিতদের কাজে সমর্থন জোগানোর জন্য তাদের কাছে যা-কিছু ছিল, তা ব্যবহার করেছিল।—লূক ৮:১-৩.

৯. অতীতে করা দানগুলো কোন কোন উৎস থেকে এসেছিল?

সেই দানগুলো ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে এসেছিল। যে-ইস্রায়েলীয়রা আবাস নির্মাণ করার কাজে দান করেছিল, তারা হয়তো সেই মূল্যবান বিষয়গুলো দিয়েছিল, যেগুলো তারা মিশর থেকে নিয়ে এসেছিল। (যাত্রা. ৩:২১, ২২; ৩৫:২২-২৪) প্রথম শতাব্দীতে, কোনো কোনো খ্রিস্টান তাদের বিভিন্ন বিষয় যেমন, জমি অথবা বাড়ি বিক্রি করেছিল এবং সেখান থেকে পাওয়া অর্থ প্রেরিতদের দান করেছিল। প্রেরিতরা সেই অর্থ ব্যবহার করে অভাবী ভাই-বোনদের সাহায্য করেছিলেন। (প্রেরিত ৪:৩৪, ৩৫) অন্যান্য খ্রিস্টানরা নিয়মিতভাবে অর্থ আলাদা করে সঞ্চয় করে রাখত, যাতে তারা যিহোবার কাজে সমর্থন জোগানোর জন্য দান করতে পারে। (১ করি. ১৬:২) তাই, অতি ধনী থেকে অতি দরিদ্র, প্রত্যেকেই কিছু-না-কিছু দান করতে পেরেছিল।—লূক ২১:১-৪.

যেভাবে বর্তমানে আমরা দান করি

১০, ১১. (ক) কীভাবে আমরা বাইবেলের সময়ে বসবাসরত যিহোবার উদার দাসদের অনুকরণ করতে পারি? (খ) রাজ্যের কাজে সমর্থন জোগানোর বিষয়ে আপনি কেমন অনুভব করেন?

১০ বর্তমানেও, নির্দিষ্ট কাজগুলোর জন্য দানের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। হতে পারে, আপনার মণ্ডলী আপনাদের কিংডম হল পুনর্সংস্কার করার অথবা নতুন একটা কিংডম হল নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে। আবার হতে পারে, আপনাদের স্থানীয় শাখা অফিস পুনর্সংস্কার করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া, আমরা হয়তো আমাদের সম্মেলনের খরচ মেটাতে সাহায্য করতে পারি। অথবা অন্য কোনো জায়গার ভাই-বোনেরা হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে এবং তাদের সাহায্যের প্রয়োজন। এ ছাড়া, আমাদের দানগুলো মিশনারিদের, বিশেষ অগ্রগামীদের, সীমা অধ্যক্ষদের এবং যারা বিশ্বপ্রধান কার্যালয়ে ও বিশ্বব্যাপী শাখা অফিসগুলোতে কাজ করে, তাদের সমর্থন জোগায়। আপনার মণ্ডলী হয়তো বিশ্বের অন্যান্য অংশের ভাই-বোনদের জন্য সম্মেলন হল ও কিংডম হল নির্মাণ করতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যেও নিয়মিতভাবে দান পাঠিয়ে থাকে।

১১ যিহোবার সংগঠন এই শেষকালে যে-কাজ করছে, সেটাতে সমর্থন জোগানোর জন্য আমরা সবাই কিছু-না-কিছু দান করতে পারি। বেশিরভাগ দান নাম না জানিয়ে করা হয়ে থাকে। আমরা যখন কিংডম হলের দান বাক্সে টাকা দিই অথবা jw.org-এর মাধ্যমে অনলাইনে দান করি, তখন আমরা অন্যদের জানাই না যে, আমরা কত টাকা দান করেছি। কিন্তু, আপনি যদি মনে করেন আপনার দান খুবই ক্ষুদ্র, তা হলে? সত্য বিষয়টা হল, আমাদের সংগঠন যে-দানগুলো লাভ করে, সেগুলোর বেশিরভাগই অনেক ছোটো ছোটো দানের মাধ্যমে আসে, অল্প কয়েকটা বড়ো দানের মাধ্যমে নয়। এমনকী আমাদের যে-সমস্ত ভাই-বোনের খুবই অল্প পরিমাণ টাকা রয়েছে, তারাও প্রথম শতাব্দীর মাকিদনিয়ার খ্রিস্টানদের অনুকরণ করে। সেই খ্রিস্টানরা ‘অগাধ দীনতার’ মধ্যে ছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও, তারা দান করার সুযোগ চেয়ে বিনতি করেছিল এবং তারপর উদারভাবে দান করেছিল।—২ করি. ৮:১-৪.

১২. কীভাবে সংগঠন দানগুলোকে যথাসম্ভব সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করার চেষ্টা করে?

১২ পরিচালকগোষ্ঠী যেভাবে দানগুলো ব্যবহার করে থাকে, তা দেখায় যে তারা হল বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান। (মথি ২৪:৪৫) এর সদস্যরা উত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন এবং কীভাবে টাকাপয়সা ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। (লূক ১৪:২৮) বাইবেলের সময়ে যে-বিশ্বস্ত পুরুষরা দানগুলোর দেখাশোনা করত, তারা এই বিষয়টা নিশ্চিত করত যেন সেই দান একমাত্র যিহোবার উপাসনার জন্যই ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ, ইষ্রা যখন যিরূশালেমে ফিরে এসেছিলেন, তখন তার কাছে পারস্যরাজের দেওয়া মূল্যবান দানগুলো ছিল। সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল সোনা, রুপো ও অন্যান্য ধনসম্পদ, বর্তমানে যেগুলোর মূল্য হবে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের চেয়েও বেশি। ইষ্রা এই দানগুলোকে যিহোবার উদ্দেশে দেওয়া দান হিসেবে দেখেছিলেন। তাই, তিনি লোকেদের নির্দিষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যাতে তারা বিপদজনক এলাকাগুলোর মধ্যে দিয়ে দানগুলো নিয়ে আসার সময় সেগুলোকে সুরক্ষিত রাখে। (ইষ্রা ৮:২৪-৩৪) এর অনেক বছর পর, প্রেরিত পৌল যিহূদিয়ার অভাবী ভাই-বোনদের সাহায্য করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি এই বিষয়টা নিশ্চিত করেছিলেন যে, যারা সেই অর্থ পৌঁছে দিয়েছিল, তারা যেন “কেবল [ঈশ্বরের] সাক্ষাতে নয় মনুষ্যদের সাক্ষাতে যাহা উত্তম [‘সৎ,’ বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন],” সেই অনুযায়ী সমস্ত কিছু সুরক্ষিত রাখে। (পড়ুন, ২ করিন্থীয় ৮:১৮-২১.) বর্তমানে, আমাদের সংগঠন ইষ্রা ও পৌলকে অনুকরণ করে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দানগুলো ব্যবহার করে।

১৩. কেন সংগঠন সম্প্রতি নির্দিষ্ট পরিবর্তনগুলো করেছে?

১৩ একটা পরিবার হয়তো তাদের টাকাপয়সা খরচ করার বিষয়ে রদবদল করতে পারে, যাতে তারা তাদের আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় না করে। অথবা তারা হয়তো তাদের জীবন সাদাসিধে করার উপায় খুঁজতে পারে, যাতে তারা যিহোবার জন্য আরও কিছু করতে পারে। যিহোবার সংগঠনের ক্ষেত্রেও একই বিষয় সত্য। সম্প্রতি, অনেক রোমাঞ্চকর নতুন নতুন প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে এবং কখনো কখনো, যতটা দান পাওয়া গিয়েছে, সেটার চেয়ে বেশি খরচ করা হয়েছে। তাই একটা পরিবারের মতোই, আমাদের সংগঠন টাকা বাঁচানোর ও কাজকে আরও সহজসরল করার জন্য বিভিন্ন উপায় খোঁজে, যাতে এই সংগঠন আপনার উদার দানগুলো ব্যবহার করে যথাসম্ভব সবচেয়ে বেশি কাজ করতে পারে।

আপনার দানের ফলে আসা উপকারিতা

কিংডম হল নির্মাণ পকপ; একটা বড়ো স্টডিয়ামে আন্তর্জাতিক সমলন অনুষ্ঠত হচ্ছ

আপনার দানগুলো আমাদের বিশ্বব্যাপী কাজে সাহায্য জোগায় (১৪-১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৪-১৬. (ক) আপনার দানগুলো কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে? (খ) কীভাবে এই প্রকল্পগুলো ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে সাহায্য করেছে?

১৪ বহু বছর ধরে সত্যে আছে, এমন অনেক ভাই-বোন বলে যে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে আমরা সংগঠনের কাছ থেকে আরও বেশি উপহার লাভ করি। এখন আমাদের কাছে jw.org এবং JW ব্রডকাস্টিং রয়েছে। আমাদের কাছে আরও অনেক ভাষায় পবিত্র শাস্ত্রের নতুন জগৎ অনুবাদ বাইবেল রয়েছে। ২০১৪/২০১৫ সালে সারা বিশ্বের ১৪টা শহরের সবচেয়ে বড়ো কিছু স্টেডিয়ামে তিন দিনব্যাপী একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেটার মূলভাব ছিল, “ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে প্রথমে চেষ্টা করুন!” সেই সম্মেলনগুলোতে উপস্থিত প্রত্যেকেই অনেক আনন্দিত হয়েছিল!

১৫ অনেকে প্রকাশ করেছে যে, যিহোবার সংগঠনের কাছ থেকে এই উপহারগুলো পেয়ে তারা কতটা কৃতজ্ঞ। উদাহরণ স্বরূপ, এশিয়ায় সেবা করে এমন এক বিবাহিত দম্পতি লিখেছিলেন: “আমরা একটা ছোট্ট শহরে সেবা করি। তাই মাঝে মাঝে, আমরা নিজেদের বিছিন্ন বলে মনে করি আর আমরা সহজেই সারা বিশ্বে ঘটে চলা যিহোবার কাজ সম্বন্ধে ভুলে যাই। কিন্তু, JW ব্রডকাস্টিং-এ বিভিন্ন কার্যক্রম দেখামাত্র আমাদের মনে পড়ে যায় যে, আমরা এক আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃসমাজের অংশ। আমাদের প্রিয় স্থানীয় ভাই-বোনেরা JW ব্রডকাস্টিং-এর বিষয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। আমরা প্রায়ই তাদের বলতে শুনি যে, মাসিক কার্যক্রমগুলো দেখার পর তারা পরিচালকগোষ্ঠীর সদস্যদের আরও নিকটবর্তী বোধ করে। ঈশ্বরের সংগঠনের অংশ হতে পেরে এখন তারা আগের চেয়ে আরও বেশি গর্বিত।”

১৬ বর্তমানে, সারা বিশ্বে প্রায় ২,৫০০টা কিংডম হল নির্মাণ করা অথবা পুনর্সংস্কার করা হচ্ছে। হন্ডুরাসের একটা মণ্ডলীর সদস্যরা বলেছিল, একসময় তাদের কাছে এটা কেবল একটা স্বপ্ন ছিল যে, তাদের নিজেদের একটা কিংডম হল হবে কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন সত্যি হয়ে গিয়েছে। তারা লিখেছিল: “আমরা যিহোবার নিখিলবিশ্বের পরিবারের অংশ হতে পেরে এবং আমাদের বিশ্বব্যাপী ভ্রাতৃসমাজের চমৎকার বন্ধন উপভোগ করতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।” অনেকে সেইসময় একইরকম অনুভূতি প্রকাশ করে, যখন তারা নিজেদের ভাষায় বাইবেল ও অন্যান্য প্রকাশনা লাভ করে, যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ভাই-বোনেরা তাদের সাহায্য করে অথবা যখন তারা তাদের এলাকার বড়ো বড়ো শহরে ও জনসাধারণ্যে সাক্ষ্যদান করার উত্তম ফলাফল দেখতে পায়।

১৭. কীভাবে আমরা জানি যে, যিহোবা বর্তমানে তাঁর সংগঠনে সমর্থন জোগাচ্ছেন?

১৭ যিহোবার সাক্ষি নয় এমন অনেকে এই বিষয়টা বুঝতেই পারে না যে, কীভাবে আমরা কেবল স্বেচ্ছাকৃত দানের সাহায্যে এই সমস্ত কাজ করি। একবার, একটা বড়ো কোম্পানির একজন কর্মকর্তা আমাদের একটা ছাপাখানা ঘুরে দেখেছিলেন। তিনি এটা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে, সেই সমস্ত কাজ স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে, স্বেচ্ছাকৃত দান ব্যবহার করে এবং কখনো অর্থ লাভ করার উদ্দেশ্যে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন না করেই সম্পাদিত হচ্ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, আমরা একটা অসম্ভব কাজকে সম্ভবপর করছি। এ-বিষয়ে আমরাও একমত! আমরা জানি, একমাত্র যিহোবার সমর্থনের কারণেই এই কাজ সম্ভবপর হচ্ছে।—ইয়োব ৪২:২.

যিহোবাকে প্রতিদান দেওয়ার আশীর্বাদগুলো

১৮. (ক) আমরা যখন রাজ্যের কাজে সমর্থন জোগাই, তখন আমরা কোন কোন আশীর্বাদ লাভ করি? (খ) কীভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের ও নতুন ব্যক্তিদের একই বিষয় করার জন্য শেখাতে পারি?

১৮ যিহোবা আমাদের তাঁর রাজ্যের মহান কাজকে সমর্থন করার সম্মান ও সুযোগ দেন। তিনি আমাদের এই নিশ্চয়তা দেন যে, আমরা যখন তা করব, তখন তিনি আমাদের আশীর্বাদ করবেন। (মালাখি ৩:১০) যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন, আমরা যদি উদারভাবে দান করি, তা হলে আমরা পরিতৃপ্ত হব। (পড়ুন, হিতোপদেশ ১১:২৪, ২৫.) তিনি আরও বলেন, আমরা যখন দান করব, তখন আমরা সুখী হব কারণ “গ্রহণ করা অপেক্ষা বরং দান করা ধন্য” বা সুখী “হইবার বিষয়।” (প্রেরিত ২০:৩৫) আমাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে আমরা আমাদের সন্তানদের ও নতুন ব্যক্তিদের শেখাতে পারি যে, কীভাবে তারাও এই কাজে দান করতে পারে ও অনেক আশীর্বাদ উপভোগ করতে পারে।

১৯. কীভাবে এই প্রবন্ধ আপনাকে উৎসাহিত করেছে?

১৯ আমাদের কাছে যা-কিছু রয়েছে, সেই সমস্তই যিহোবার কাছ থেকে এসেছে। আমরা যখন যিহোবাকে সেগুলোর প্রতিদান দিই, তখন আমরা দেখাই যে, আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তিনি আমাদের জন্য যা-কিছু করেছেন, সেগুলোকে মূল্যবান বলে মনে করি। (১ বংশা. ২৯:১৭) ইস্রায়েলীয়রা যখন মন্দির নির্মাণ করার কাজে দান করেছিল, তখন তারা ‘ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করা হেতু আনন্দ করিয়াছিল, কেননা তাহারা একাগ্রচিত্তে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করিয়াছিল।’ (১ বংশা. ২৯:৯) আসুন, যিহোবা আমাদের ইতিমধ্যেই যা-কিছু দিয়েছেন, সেখান থেকে তাঁকে প্রতিদান দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আনন্দ ও পরিতৃপ্তি লাভ করে চলি।